প্রকাশের সময় :
ইরানের বিরুদ্ধে সুর আরও তীব্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে নতুন করে সমঝোতায় বসার জন্য মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে গাজ়ার পুনর্গঠনে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসা জরুরি, অন্যথায় ‘ভয়াবহ কিছু’ ঘটতে চলেছে। পরে নিজের বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ ওঠার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, ১০ থেকে ১৫ দিন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সময় এবং এই সময়ের মধ্যে কোনো রফাসূত্র না মিললে ইরানের জন্য পরিণতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার ঘোর আপত্তি রয়েছে, কারণ ওয়াশিংটনের দাবি তেহরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান এই দাবি অস্বীকার করে একে তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে হানা দিতে মার্কিন সেনারা প্রস্তুত রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান ও ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর মতো শক্তিশালী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
আমেরিকার এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিপরীতে ইরানও তাদের প্রধান পরমাণু কেন্দ্রগুলোকে বাঙ্কার দিয়ে ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা জোরদার করছে। পাশাপাশি, শক্তিপ্রদর্শনের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে তারা পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যাকে অনেকেই প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি এবং উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখন তুঙ্গে।