ভদ্রায় লোহার রড–হাতুড়ি নিয়ে তাণ্ডব: ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টায় সন্ত্রাসী চক্রের নৃশংসতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুর মহানগরের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ওরিয়েন্ট ক্লাবের নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষের বিকল্প নেই— দুর্গাপুরে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
পুঠিয়া-দুর্গাপুরে ধানের শীষের গণজোয়ার
এই দেশে আর বিভাজনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: রাজশাহীতে জামাতে আমির
কলম ছেড়ে প্রকৃতির কোলে: ‘রাজশাহীর আলো’র আনন্দঘন বনভোজন সম্পন্ন
জলবায়ু ও মানবিক দায়বদ্ধতায় স্থাপত্যের ভূমিকার কথা বললেন কাশেফ চৌধুরী
রাজশাহী-৫: নজরুল ইসলামের পক্ষে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা
রাজশাহী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা ও বনভোজন রবিবার
রাজশাহী-৫ আসনে মনজুর রহমানের গণসংযোগে ভোটের মাঠে নতুন গতি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন ভদ্রা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলামের ওপর সংঘটিত পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার বোন মোসা: বিলকিস আক্তার। আজ রবিবার বিকেলে নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও আগাম সতর্কবার্তা উপেক্ষার ফলেই এই নির্মম হত্যাচেষ্টার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র তার ভাইকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল। একাধিকবার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ১১টার সময় ভদ্রা ভাংরিপট্টি সেরিকলচার মসজিদ গেটের বিপরীতে রফিকুল ইসলামের পাইকারি লোহার দোকানের সামনে তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা দোকান থেকে টেনে বের করে রফিকুল ইসলামকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাম উল্লেখ করে অভিযুক্ত হিসেবে মনিরুল ইসলাম শরিফ (২৫), স্বাধীন, শরিফুল ইসলাম সফি, মোসা: মনি, মোসা: নিশা খাতুনসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। বক্তার দাবি, প্রকাশ্য হত্যাচেষ্টার মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটিয়েও অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বিলকিস আক্তার আরও জানান, এই ঘটনার আগেই ২০২৫ সালের ৫ জুলাই তার ভাইকে অপহরণের আশঙ্কায় চন্দ্রীমা থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এমজিআর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও উদাসীনতায় সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষিত থাকে। তার ভাষায়, প্রশাসনের এই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত সরাসরি হত্যাচেষ্টার রূপ নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এই হামলা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, আইনের শাসন এবং সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি অবিলম্বে সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীদের রক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিলকিস আক্তার গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে কোনো চাপ বা প্রভাব উপেক্ষা করে সত্য ও বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরা হয়। তার ভাষায়, আজ একটি পরিবার আক্রান্ত হলেও আগামী দিনে যে কেউ এই সন্ত্রাসের শিকার হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :