বদলির আদেশ অমান্য ও সাংবাদিককে ‘মিথ্যা মামলার’ হুমকি: আরএমপির হেডমোহরারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বাড়ি ফেরা হলো না সুরাইয়ার: নিখোঁজের ৫ দিন পর মিলল হাত-পা বাঁধা লাশ
দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সিসি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে পৌর প্রশাসক লায়লা নুর তানজু
তানোরে যৌথ অভিযানে ফেন্সিডিলের বড় চালান উদ্ধার, মোটরসাইকেল ফেলে পালাল পাচারকারী
দুর্গাপুরে বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগ নেতা গ্রেফতার
রাজশাহীতে লঙ্কাবাংলা ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ: মানবিক সহায়তায় অনন্য উদ্যোগ
চারঘাটে মোস্তফা শেখ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফরহাদ ঢাকায় গ্রেপ্তার
সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও ঐক্যই সংগঠনের শক্তি: রাজশাহীতে আলমগীর গনি
পায়ুপথে ইয়াবা পাচারকালে আন্তঃজেলা মাদক কারবারি র্যাবের হাতে গ্রেফতার
পুঠিয়ায় র্যাবের চেকপোস্ট: ১৩ হাজার কেজি লবণের নিচে মিলল ১২৬ কেজি গাঁজা, ট্রাকসহ গ্রেফতার ১

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) কর্মরত এক হেডমোহরারের বিরুদ্ধে বদলির সরকারি আদেশ অমান্য করে একই দপ্তরে বহাল থাকা এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ একাধিক দপ্তরে দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২৭ নভেম্বর আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কাশিয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের হেডমোহরার কাজী মো. শাহ আলমকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি করা হয়। তবে আদেশের দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে রহস্যজনকভাবে আরএমপি সদর দপ্তরেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এই প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেন জাতীয় দৈনিক বর্তমান-এর রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পাভেল ইসলাম মিমুল।
অভিযোগে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হেডমোহরার শাহ আলম তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক পাভেল ইসলামকে ফোন করেন। তিনি সংবাদ প্রচার বন্ধ না করলে সাংবাদিককে ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে’ হয়রানি করার প্রকাশ্য হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, “একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের পক্ষ থেকে এ ধরনের হুমকি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভাগীয় মামলা এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ছিল। একাধিক আদালত সংক্রান্ত জটিলতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও তিনি কীভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বদলির আদেশ বছরের পর বছর উপেক্ষা করে একই স্থানে বহাল থাকেন, তা নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরেই কানাঘুষা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বদলির আদেশ অমান্য করা এবং সংবাদকর্মীকে হুমকি দেওয়া গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিক নেতাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা না নিলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি অপরাধী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
আপনার মতামত লিখুন :