প্রকাশের সময় :
রবিউল ইসলাম, রাজশাহীঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজশাহীর নির্বাচনী মাঠ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে ১৯ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ত্রুটি ও বিভিন্ন কারণে ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া একটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
আসনভিত্তিক বৈধ ও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের তালিকা:
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী):
এই আসনে বৈধতা পেয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিএনপি মনোনীত শরিফ উদ্দিন এবং এবি পার্টির আব্দুর রহমান মহসিনী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম তারেক, আল সাআদ এবং গণঅধিকার পরিষদের মীর মো. শাহজাহানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রাজশাহী-২ (সদর):
সদর আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। এছাড়া এবি পার্টির মু সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম, লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম এবং নাগরিক ঐক্যের সামছুল আলম বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সালেহ আহমেদ এবং এলডিপির ওয়াহেদুজ্জামানের মনোনয়ন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর):
এখানে বিএনপির এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে গেছেন। তবে ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমানসহ দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আমজনতা দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা):
এই আসনে বিএনপির ডি এম ডি জিয়াউর রহমান এবং জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের প্রার্থিতা বৈধ। বাতিল তালিকায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের তাজুল ইসলাম খান।
রাজশাহী-৫ (পুতিন-দুর্গাপুর):
বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের মনজুর রহমান বৈধ ঘোষিত হলেও এখানে বাতিলের সংখ্যা বেশি। রায়হান কায়সার ও জুলফার নাইম মোস্তফাসহ মোট ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লার মনোনয়নপত্র বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট):
এ আসনে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ, জামায়াতের নাজমুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস সালাম সুরুজ। তবে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন তারা চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। ৫ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।