প্রকাশের সময় :
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও: বর্তমান যুগে যেখানে কিশোরদের অবসর কাটে স্মার্টফোনে গেম খেলে বা আড্ডায়, সেখানে ঠাকুরগাঁওয়ের কিশোর সৈকত আহমেদ তৈরি করছে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত। প্রযুক্তির প্রতি গভীর অনুরাগ আর নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে সে হয়ে উঠেছে সাইবার নিরাপত্তার এক দক্ষ কারিগর। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর কর্মতৎপরতা এখন জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ডিজিটাল সমস্যার আস্থার নাম: বিগত প্রায় দুই বছর ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তায় কাজ করছে সৈকত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং জিমেইলের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোতে আইডি হ্যাক হওয়া, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন জটিলতা কিংবা হারানো অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে সে এখন স্থানীয়দের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে যারা দিশেহারা হয়ে পড়েন, তাদের কাছে সৈকত এক ভরসার নাম।
অনুপ্রেরণার উৎস: নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে সৈকত বলে, “যখন কোনো ব্যবহারকারী তার প্রিয় অ্যাকাউন্টটি ফিরে পান বা আমি কারও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি, তখন যে তৃপ্তি পাই তা-ই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। আমি মনে করি, ডিজিটাল যুগে মানুষের তথ্য সুরক্ষিত রাখা আমাদের প্রজন্মের একটি বড় দায়িত্ব।”
সাফল্যের নেপথ্যে: নিছক শখের বশেই শুরু হলেও সৈকতের এই অগ্রযাত্রা এখন অনেকের জন্য মডেল। সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে প্রমাণ করেছে যে, বয়স কখনো দক্ষতার পথে বাধা হতে পারে না। স্থানীয় প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সৈকত ভবিষ্যতে দেশের সাইবার সিকিউরিটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ঠাকুরগাঁওয়ের এই তরুণ প্রতিভা স্বপ্ন দেখে নিজেকে একজন বিশ্বমানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার। দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কারিগরি ভূমিকা রাখতে চায় সে। সৈকতের এই অদম্য পথচলা আজ তাকে শুধু একজন আইটি এক্সপার্ট হিসেবে নয়, বরং তরুণদের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সম্পাদকীয় নোট: তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে আরও তথ্য জানতে বা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আমাদের সাথেই থাকুন।