গাজীপুর মহানগরের ৪৭নং ওয়ার্ডে ওরিয়েন্ট ক্লাবের উদ্যোগে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়
সারের কৃত্রিম সংকট ও অনিয়ম রোধে কৃষি কর্মকর্তার কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রসূতি মায়েদের জন্য সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং সেবা চালু করল সিএমএইচআর
‘তারেক রহমানের কাছে আন্দোলনের ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ এনেছেন ড. ইউনূস’
সেনানিবাসে আশ্রয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, পতন হলো শিরীন শারমিনের
বিশ্ববাজারে ১২ শতাংশ তেল উধাও, ব্যারেল প্রতি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ১৫০ ডলার
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এস এ গ্রুপের শতকোটি টাকার মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
মহাকাশে প্রথমবার আইফোন ব্যবহার করছেন নাসার নভোচারীরা
গোদাগাড়ীতে নাবিল গ্রুপের দাপট: রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলে কৃষি ও কৃষককে ধ্বংসের পাঁয়তারা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি: আসন্ন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের করণীয় বিষয়ে গাজীপুর মহানগরে আলোচনা সভা

চারঘাট সংবাদদাতা : রাজশাহীর চারঘাটের সদরের আইসক্রিম বিক্রেতা আসাদ কে চেনেনা এমন লোক পাওয়া দুর্লভ। বিগত বছরগুলো ব্যবসায় সচ্ছলতা খুঁজে পেলেও বর্তমানে ব্যবসায় খুব একটা লাভ করতে পারছেন না তিনি। তাঁর কাছে ছোট থেকে বড় সকল আইসক্রিম ক্রেতারাই ভিড় করে। কিন্তু সঠিকভাবে পাননা আইসক্রিম ও তাঁর মূল্য। অনেকেই আইসক্রিম বাকি নেন দেননা টাকা। যেই টাকার ওপর নির্ভর করে আসাদের পরিবার।
মোঃ আসাদ আলী, বয়স আনুমানিক ৫২ বছর । তিনি মিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। আসাদ আজ থেকে ৩৬ বছর আগে দুশো টাকা দিয়ে আইসক্রিম ব্যবসা শুরু করেছিলেন প্রাথমিকভাবে। প্রায় ৩৬ বছর ধরে সদরে চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল সামনে কখনো কখনো গ্রামে গিয়ে বিক্রি করেন।
সারাদিনে আইসক্রিম বিক্রি করে যত টাকা উপার্জন করেন তা দিয়েই চাল ডাল কিনে বাড়ি যান। আইসক্রিম বিক্রি করে জীবন সংসার নিয়ে সুখে আছেন বলে জানা তিনি। ৩৬ বছর আগে যারা দেখেছেন ঠিক তেমনি আছেন আসাদ। বয়সের ভারে নুয়েও যাননি।
আসাদ বেশিরভাগ আইসক্রিম বিক্রি করে তাঁর জীবন নামের রেলগাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরম যত্নে লালন পালন করছেন পরিবারটিকে। পরিশ্রম তাঁর কাছে হার মানলেও তিনি অদম্য সাহসিকতা নিয়ে শ্রমের পেছনে পড়ে আছেন। পড়ে আছেন পরিবারকে সুখে রাখার প্রত্যয়ে।
সুফিয়ান নামের একজন বলেন, আসাদ মামা জীবন সংগ্রামী একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত কতগুলো বরফ খেয়েছি তা বলা মুশকিল। তিনি এই ব্যবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ছোট ছোট বাচ্চারা বেশিরভাগ সময় বরফ আসাদ মামা অথবা বড়রা ভাই বলে আইসক্রিম চাইতো। এখনও ছেলে মেয়েদের আন্তরিকতা খুব একটা আন্তরিক নয়। আগে ছেলে মেয়েরা অনেক সম্মান করতো । আসাদ সাহেব বরফ একসময় বাকি দিতেন। সেই বাকি টাকার কথা আসাদ সাহেব ভুলে গেলেও মনে করে টাকা দিয়ে যেত সবাই। আর এখন বাকি দিলে দুই দিনেই পুঁজি শেষ হয়ে যাবে, কারণ বাকি খেলেও বাকির টাকা দেয়ার কথা মনেও রাখে না।
বরফ মামা আসাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন, প্রথম চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পাশাপাশি চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলের সামনে দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছি। বাড়তি উপার্জন করতে গ্রামে গিয়েও আইসক্রিম বিক্রি করি।
বরফ মামা আসাদ হাঁসিমুখে বলেন, এখনকার ছেলেদের আদব কায়দা খুব কম । অল্পতেই রেগে যায়। বাকি নিয়ে অনেকসময় দেয় না। আবার অনেকে ভুলে যায়। চাইলে অনেকে খারাপ ব্যবহার করে। বর্তমানে আয় কম হলেও জীবনের শেষ সময় টুকু এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই। এটা করতে পারলেই শান্তি।
আপনার মতামত লিখুন :