বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বাহারি ঘুড়িতে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব

বাহারি ঘুড়িতে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

আকাশের বুকে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি উড়ছে। পুরো আকাশটা ছিলো ঘুড়িদের দখলে। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) পুরান ঢাকায় চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘সাকরাইন’ উৎসব। মূলত পৌষ সংক্রান্তিতেই পালন করা হয় সাকরাইন উৎসব। আর একদিন পরেই মাঘ মাস। পৌষের শেষ দিনটিতে গান-বাজনা, আতশবাজি ও ঘুড়ি উড়ানোর মধ্য দিয়ে পালিত হয় সাকরাইন উৎসব। সন্ধ্যা হতেই পটকা-আতশবাজি ফুটিয়ে আর রঙ-বেরঙের ফানুস উড়িয়ে আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে পুরান ঢাকার আকাশ। পুরান ঢাকাবাসী প্রতি বছর এভাবেই সাকরাইন উৎসবকে আনন্দঘন করে তোলে। 

জানা যায়, ১৭৪০ সালের এই দিনে মোগল আমলে নায়েব-ই-নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি উড়ানোর শুরু। সেই থেকে ৩০০ বছরের অধিক সময় ধরে এই ঐতিহ্য নিয়ে বয়ে চলছে আমাদের ঢাকা। সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব তেমনই পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। সাকরাইন উৎসব বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বিখ্যাত একটি বার্ষিক উৎসব। যদিও এই সাকরাইন শব্দটি নানান পথ পরিক্রমায় সংস্কৃত শব্দ সংক্রন থেকে এসেছে। আর এই সংক্রনের আভিধানিক অর্থ হলো ‘বিশেষ মুহূর্ত’, অর্থাৎ বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে যে উৎসব পালিত হয় তাকেই বলা হচ্ছে সাকরাইন উৎসব। এটি বাংলাদেশের পুরানো ঢাকার বৃহত্তম উৎসব। এ উৎসবে অংশ নেন সব ধর্ম, পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

প্রতি বছরের ন্যায় এই দিনটিকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার অলিতে গলিতে ও বাসার ছাদে সব বয়সের মানুষ মিলিত হয়ে পালন করছে অতি প্রাচীন উৎসব। সাজসজ্জা আর বাড়তি আয়োজনে বিশেষ মুহূর্তটি পালন করছে সবাই।

পুরান ঢাকার প্রতিটি বাড়ির ছাদে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এমনকি বয়োবৃদ্ধরাও এ উৎসবে মিলিত হন! বিকেল হলেই বাড়তে থাকে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যা। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বিভিন্ন আয়োজনে মেতে ওঠেন সবাই।

Copyright © 2022 Star News Agency. All rights reserved.