রাজশাহীতে ছয় বৈচিত্র্যময় অঞ্চলের মানুষ নিয়ে যুব জলবায়ু সম্মেলন


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ । ১০:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ছয় বৈচিত্র্যময় অঞ্চলের মানুষ নিয়ে যুব জলবায়ু সম্মেলন

মোঃ মানিক হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি :

বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভিন্নতায় জলবায়ু পরিবর্তনে জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অভিযোজন, প্রশমণসহ ও তাঁদের লোকায়িত চর্চা, জলবায়ু পরিবর্তনে সংকট গুলো তুলে ধরাসহ ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার, জলবায়ু সুবিচার’ দাবির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ছয়টি আলাদা বৈচিত্র্যময় এলাকা থেকে কৃষক, আদিবাসী, নারী পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ, তরুণ-যুবসহ নানা পেশার মানুষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম দিনের ‘রাজশাহী যুব জলবায়ু সম্মেলন ২০২২’।

এই সম্মেলনটি মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মনুষ্যসৃষ্ট নানা উন্নয়ন দুর্যোগ, যুদ্ধ, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি বিশ্ব আজ জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আরেক যন্ত্রণার মুখোমুখি। বাংলাদেশসহ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর ও কৃষিনির্ভর দেশগুলো এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও এর ভোগান্তিটা পোহাতে হচ্ছে আমাদেরকেই। নানামুখী বিপর্যয় আর অস্থিরতা সামলে আমাদের গ্রামীণ সমাজ এই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় লড়াই করে চলেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে নানামুখী ক্ষতির শিকার হলেও তার পর্যাপ্ত। ক্ষতিপূরণ পায়না আমাদের মতো দেশগুলো। দীর্ঘদিন থেকে ক্ষীতপূরণের আশ্বাস দিয়ে এসেছে উন্নত দেশগুলো। ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। আজকের তরুণ-যুব সমাজ কোনোভাবেই এই বৈশ্বিক ঘটনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ও আলাদা করে রাখতে পারে না। কারণ তাঁরা আগামীর বিশ্বকে নিজেদের বাসযোগ্য করতে বদ্ধপরিকর। তাঁরা জানে সকলে সুরক্ষিত না হলে কেউ সুরক্ষিত নয়।

আঞ্চলিক ভিন্নতায় বৈচিত্র্য বৈভবে অনন্য আমাদের বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনে আধানিক অভিঘাত দিনে দিনে সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে যেমন খরা ও অনাবৃষ্টিসহ তাপমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে, পানি সংকট ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝা সাইক্লোন, জলোচ্ছাস তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, বাড়ছে লবণাক্ততা।

সমতল প্লাবন অঞ্চলসহ নদীবিধৌত চরাঞ্চলে বেড়েছে নদীভাঙন স্থানান্তর। অন্যদিকে বিল ও হাওড়বেষ্টিত জলাভূমি অঞ্চলে অসময়ে বন্যা এবং ফসল হানি আরো বেশি বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাবের কারনে নারীরা নানামূখী নতুন নতুন স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপশি বিভিন্ন বয়সের ও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

এক কথায় জলবায়ু পরিবর্তনে তৈরি হচ্ছে জটিল আর্থসামাজিক সমস্যা, যার প্রভাব পড়েছে শরীর ও মনে। বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভিন্নতায় এই বিপন্নতা বুঝে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে এই মানুষদের জন্য জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা তাঁদের উপযুক্ত পাবেনা, তাঁদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। ধনী দেশগুলোর যে অঙ্গীকার তা পূরণই জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনে আঞ্চলভিত্তিক সংকট, সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরা, তাঁদের পরিকল্পনা উপস্থাপনসহ ধনীদেশগুলোর জলবায়ু তহবিল অঙ্গীকার পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী পর্ব নিবন্ধন, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, ধারণাপত্র, উদ্বোধনী বক্তৃতা ও বিজয়ের গান দিয়ে শুরু হয়।

এরপর ১১টায় বিষয়ভিত্তিক বিদ্যায়তনিক আলোচনা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সাংবাদিক আলোচনা ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

দুপুর ১টায় স্বাস্থ্যবিরতির পর বেলা ২টায় বিষয়ভিত্তিক চর্চাগত উপস্থাপন গান, বক্তৃতা, আলোচনা, অভিনয়, প্রদর্শনী ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু সংকট এবং সংকট মোকাবেলায় তরুণ ও জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন উদ্যোগ ও চর্চা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৫টায় প্রথম দিনের সমাপনী হয়।

ধরিত্র ও বৈচিত্র্যের স্বার্থে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী যুব পরিষদ, আলোর পথে তরুণ সংঘ, ইচ্ছে, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়াস, জিরো পয়েন্ট সিক্স জিআরজেড, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি, টুকরো হাসি, ডেন্টিস্ট ক্লাব, তানোর সাহিত্য পরিষদ, তরুণ স্বপ্ন যাত্রা, বাংলাদেশ ইনোভেটিভ এডুকেশন সোসাইটি (বিআইইএস), বারনই লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, বরেন্দ্র স্টুডেন্ট সোস্যাল ডেভেলপম্যান্ট সেন্টার, বরেন্দ্র পক্ষীনিবাস ও প্রাণবৈচিত্র্য সোসাইটি, বরেন্দ্র শিক্ষা বিকাশ কেন্দ্ৰ, বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র রক্ষা কেন্দ্র (বিইসিডিপিসি), ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়, মোহর স্বপ্ন আশার যুব সংগঠন, লিও ক্লাব অফ রাজশাহী মেট্রোপলিটন, স্বপ্ন পূরণ ফাউন্ডেশন, স্বপ্নচারী যুব সংগঠন, স্বপ্নের ভেলা যুব সংগঠন, হেল্প পিপল, সূর্যকিরণ বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ, নবজাগরণ ফাউন্ডেশন, সংস্থা (RUMUNA) শ্রম দিয়ে যাচ্ছে ।

এই সম্মেলনে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রায় ,কাজী রবিউল আলম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইএস, প্রফেসর মোঃ গোলাম মোস্তফা, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকা, বরেন্দ্র পরিবেশের সভাপতি জাকির হোসেন, বাসস-এর সিনিয়র রিপোর্টার আইনুল হক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন প্রকৃতি গবেষক পাভেল পার্থ। সেখানে বারসিকের গবেষক শহিদুল ইসলাম বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র তুলে ধরেন। সভাপতিত্ব করেন বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের আহ্বায়ক শাইখ তাসনীম জামাল।

উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় দিন বুধবারের (২৮ ডিসেম্বর) প্রতিপাদ্য বিষয় সক্ষমতা ও ন্যায়বিচার থাকবে বলে জানা গেছে।

এদিন অনুষ্ঠানসূচীতে সকাল ৯টায় জলবায়ু সক্ষমতা ও ন্যায়বিচার অঞ্চল, পেশা, জেন্ডার, জাতি, বয়স ও সামাজিক বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বিবেচনায় দেশের নানাপ্রাপ্ত থেকে অংশ নেয়া গ্রাম ও নগরের প্রতিনিধিগণের গান, বক্তৃতা, আলোচনা, অভিনয়, প্রদর্শনী ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের চর্চা, সক্ষমতা এবং প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হবে। সকাল ১১টায় জলবায়ু মিছিল লস এন্ড ড্যামেজ তহবিলের দাবিতে জলবায়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুর ১টায় স্বাস্থ্যবিরতির পর দুপুর ২টায় জলবায়ু ন্যায্যতায় নাগরিক সংহতি (দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলের বাঙালী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় তা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জলবায়ু ঘোষণার প্রস্তুতি) নিয়ে আলোচনা করা হবে। সবশেষে বিকাল ৫টায় সম্মাননা, জলবায়ু ঘোষণা ও সমাপণীর মাধ্যমে রাজশাহী যুব জলবায়ু সম্মেলনের সমাপ্তি করা হবে বলে জানা গেছে।

পুরোনো সংখ্যা

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: